Thursday, May 10, 2012

"সত্য এক , ঈশ্বর এক, জ্ঞানীরা তাঁকে বিভিন্ন নামে ডাকে" - রিগবেদ


"হিন্দু ধর্মগ্রন্থে এক ঈশ্বর ??!!!" আমি জানি , কথাটা শুনলে অনেক ভাই বোনদের (হোক মুসলিম কিংবা অমুসলিম) মনে এই প্রশ্নটা জাগবে । জানি, কথাটা  সাধারণ হিন্দু ভাই বোনদের কে একটু দ্বিধায় ফেলেতে পারে। কিন্তু , হিন্দু ধর্মের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী ঈশ্বর মাত্র একজন। আগে সকল হিন্দু ভাই বোনদের কে বলছি, এই নোটটা আপনাদের বিশ্বাস কে খাটো করে দেখানোর জন্য না। এই নোটটা আমার কথা না। এই ণতে আমি বলছি আপনাদের ধর্মগ্রন্থ কি বলছে । এই নোট টা আমি লিখছি আপনাদের মুল ধর্মগ্রন্থের মুলবিশ্বাসের দিকে আহ্বান করার জন্য। আমার আগেও স্বামী বিবেকানন্দ , রাজা রামমোহন রায় প্রমুখ একই কথাই বলেছেন।



তাই আমি শুরু করছি আপনাদের পবিত্র গ্রন্থ ভগবদ গীতা দিয়ে।



১. ভগবদ গীতায় ঈশ্বরের ধারণা :


''সেসব লোক যাদের বিচার বুদ্ধি কেড়ে নিয়েছে জাগতিক আকাঙ্খা, তারাই মূর্তি পূজা করে।'' (ভগবদ গীতা ৭:২০) 





২.উপনিষদে ঈশ্বরের ধারণা


আগে বলে নেই উপনিষদ কি ?? উপনিষদ হচ্ছে হিন্দু ভাই বোনদের কাছে বেদের পরে ,  সবচেয়ে পবিত্র ধরম গ্রন্থ । সংস্কৃত  ভাষায় , 'উপ' অর্থ 'কাছাকাছি', 'নি' অর্থ 'নিচে' এবং 'ষদ' অর্থ ছাত্র ।এখন আসল কথায় আসি ,

ছান্দোগ্য উপানিষদ , প্রাপাথাকা(অধ্যায়) ৬, শ্লোক ২, "এক্কাম এবাদিতিয়াম"অর্থাৎঃ ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয় ।

শ্বেতাশ্বত্র উপনিষদ  অধ্যায় ৬ , শ্লোক ৯ "না চাস ইয়া কাসচিজ জানিতা না কাধিপাহ" অর্থাৎঃ" ঈশ্বরের কোন বাবা মা নেই, তার কোন প্রভু নেই"। 
শ্বেতাশ্বত্র উপানিষদ, অধ্যায় ৪, শ্লোক ১৯ " na tasya pratima  asti"(না তাস্যা প্রাতিমা আস্তি) অর্থাৎঃ" ঈশ্বরের কোন প্রতিমা নেই।"

৩। বেদে   ঈশ্বরের  ধারণা ঃ বেদ হল হিন্দু ধর্মে সবচেয়ে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ। বেদ শব্দটি এসেছে "বিদ" থেকে যার অর্থ "জানা, পবিত্র জ্ঞান"।  mainly প্রধানত  চার ধরনের বেদ রয়েছে, 


ক। রিগবেদ
খ। অথর্ব বেদ
গ। যজুর্বেদ ।
ঘ। সামবেদ ।


এখন আমরা দেখি বেদ অনুযায়ী ঈশ্বরের ধারণা ,

ঋগবেদ গ্রন্থ ১, পরিচ্ছেদ ১৬৪, অনুচ্ছেদ ৪৬ "সত্য একটাই। ঈশ্বর একজনই। জ্ঞানীরা এক ঈশ্বরকে  ডেকে থাকেন অনেক নামে।"

 যজুর্বেদ অধ্যায় ৩২, শ্লোক ৩ "na tasya pratima asti ..."( না তাস্যা প্রাতিমা আস্তি)  

অর্থাৎঃ "ঈশ্বরের কোন প্রতিমা নেই, মূর্তি নেই, ছবি নেই।" 


  যজুর্বেদ অধ্যায় ৪০, শ্লোক ৯ “Andhatma pravishanti ye asambhuti mupaste”(আন্ধাস্মা প্রাভিসান্তি ইয়ে আসাম্ভুতি মুপাস্তে) আন্ধাস্মা মানে অন্ধকার, প্রাভিসান্তি মানে প্রবেশ করা, আসাম্ভুতি মানে প্রাকৃতিক বস্তু( পানি, আগুন, সাপ, মানুষ ইত্যাদি) মুপাস্তে মানে উপাসনা করা।
অর্থাৎঃ" তারা অন্ধকারে যাচ্ছে যারা আসাম্ভুতি মানে প্রাকৃতিক বস্তু(পানি,আগুন, সাপ, মানুষ ইত্যাদির) উপাসনা করে"

রিগবেদ গ্রন্থ ৮, পরিচ্ছেদ ১, শ্লোক ১ এ বলা হয়েছে ""Ma cid anyad vi sansata sakhayo ma rishanyata""অর্থাৎ "বন্ধুগণ, একমাত্র ঈশ্বরকে  ছাড়া কার ও উপাসনা করো না, শুধুমাত্র উনার ই প্রশংসা করো ।


এই ছোট একটি নোটের মাধ্যমে আমরা আশা করি বুঝতে পারলাম যে , হিন্দু ধর্ম গ্রন্থ অনুযায়ী , ঈশ্বর মাত্র একজন। আমাদের শুধু তার ই উপাসনা করা উচিত ।আপনাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আল্লাহ আমাদ্র জ্ঞান দান করুন । আমিন ।

3 comments:

  1. যজুর্বেদ অধ্যায় ৪০ মন্ত্র ৯
    জবাবঃ
    নিজেদের মিথ্যাচার ধরা পড়ে যাবার ভয়ে তারা ১০ ও ১১ নং মন্ত্র এরিয়ে যায়। আসলে সেখানে সম্ভূতি ও অসম্ভূতি নামে দুটো শব্দ আছে। জাকির নায়েকের অনুসারীরা সম্ভুতি এর অর্থ করে মূর্তি বা জড় জিনিস আর অসম্ভূতি অর্থ করে প্রকৃতি। কিন্তু এটা তাদের ধারাবাহিক মিথ্যাচারেরই একটা অংশ। আসলে সম্ভূতি অর্থ সৃষ্টি এবং অসম্ভূতি অর্থ বিনাশ। যেমন আমরা বলি সজ্ঞানসম্ভূত মানে সজ্ঞানে সৃষ্ট। ৯ নং মন্ত্রে বলা হয়েছে, যারা কেবলমাত্র সম্ভূতি বা অসম্ভূতির উপাসনা করে, তারা অন্ধকারে লিপ্ত। ১০ নং মন্ত্রে বলা হয়েছে, এর কারণ এই দুইরকম উপাসনার ফল দুরকম। ১১ নং মন্ত্রে বলা হয়েছে, সম্ভূতি ও বিনাশ (অসম্ভূতি) কে যারা সমন্বয় করতে পারে, তারাই বিনাশ (অসম্ভূতি) দ্বারা মৃত্যুকে তরণ করে সম্ভূতির দ্বারা অমৃতকে লাভ করে। এবার যদি আমরা তাদের দেওয়া অনুবাদ অর্থাৎ সম্ভূতি মানে মূর্তিও ধরি, তবুও ১১ নং মন্ত্রে সম্ভূতি বা মূর্তিপুজা করতেই বলা হয়েছে।

    ReplyDelete
  2. মূল মন্ত্রটি হলো জড় কামনা-বাসনার দ্বারা যাদের জ্ঞান অপহৃত হয়েছে, তারা অন্য দেব-দেবীর শরণাগত হয় এবং তাদের স্বীয় স্বভাব অনুসারে বিশেষ নিয়ম পালন করে দেবতাদের উপাসনা করে। লক্ষ্য করি, এখানে মূর্তিপুজার কোনো কথাই নেই, আছে দেবোপসনার কথা যেটাকে জাকির নায়েকের অনুসারীরা মূর্তিপুজা বানিয়ে ফেলেছে। আমরা জানি, গীতা হলো শ্রীকৃষ্ণের বাণী। আর একমাত্র শ্রীকৃষ্ণই ঈশ্বরের পূর্ণ অবতার, অন্যান্য দেবদেবী হলেন আংশিক অবতার। তাই শ্রীকৃষ্ণ মানুষকে অন্য দেবদেবীর উপাসনা না করে তারই উপাসনা করতে বলেছেন। তাই হিন্দুদের মধ্যে ইস্কন সম্প্রদায়কে দেখা যায়, যারা শুধুমাত্র শ্রীকৃষ্ণের আরাধনা করে। আর যারা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আরাধনা করেন, তারাও কিন্তু মূর্তিপুজাই করেন। কিন্তু এই দেবোপসনা যে বৃথা নয়, তা ২১ ও ২২ নং মন্ত্রেই আছে। জাকির নায়েকের অনুসারীরা ইচ্ছা করেই পরের মন্ত্রগুলো বাদ দেয় যেন তাদের মিথ্যাচার ধরা না পড়ে।
    আসুন গীতা ৭ম অধ্যায় অনুচ্ছেদ ২১ ও ২২ এ কি বলা হয়েছে দেখে নিই।

    যো যো যাং তনুং ভক্তঃ শ্রদ্ধয়ার্চিতুমিচ্ছতি।
    তস্য তস্যাচলাং শ্রদ্ধাং তামেব বিদধাম্যহম্।।২১।।
    অনুবাদঃ পরমাত্মরূপে আমি সকলের হৃদয়ে বিরাজ করি। যখনই কেউ দেবতাদের পূজা করতে ইচ্ছা করে, তখনই আমি সেই সেই ভক্তের তাতেই অচলা শ্রদ্ধা বিধান করি।

    স তয়া শ্রদ্ধয়া যুক্তস্তস্যারাধনমীহতে।
    লভতে চ ততঃ কামান্ময়ৈব বিহিতান্ হি তান্।।২২।।
    অনুবাদঃ সেই ব্যক্তি শ্রদ্ধাযুক্ত হয়ে সেই দেবতার আরাধনা করেন এবং সেই দেবতার কাছ থেকেই আমারই দ্বারা বিহিত কাম্য বস্তু অবশ্যই লাভ করেন।

    ReplyDelete
  3. না তাস্তে প্রতিমা অস্তি মানে ঈশ্বরের কোনো প্রতিমূর্তি নেই।
    জবাবঃ
    না তাস্তে প্রতিমা অস্তি এটা কোনো সম্পূর্ণ শ্লোক নয়। নিজেদের ভন্ডামির সুবিধার্থেই তারা সম্পূর্ণ শ্লোক না দিয়ে আংশিক শ্লোক দিয়ে থাকে। সম্পূর্ণ শ্লোকটি হলোঃ
    ন তস্য প্রতিমা অস্তি যস্য নাম মহদযশঃ ৷
    হিরণ্যগর্ভ ইত্যেষ মা মা হিংসীদিত্যেষ যস্মান্ন জাত ইত্যেষঃ৷৷
    [ শুক্ল-যজুর্বেদ ৩২৷৩ ]
    অর্থঃতাঁহার তুলনা বা সাদৃশ্য নাই যাঁহার নামে মহৎ যশ। আপনারা একটু লক্ষ্য করলেই বুঝতে পারবেন এখানে প্রতিমা অর্থ মূর্তি হলে কোনোভাবেই অর্থ মিলে না। কারণ মহৎ যশ থাকার সঙ্গে মূর্তি না থাকার কোনো সম্পর্কই নেই। উল্টো আমরা দেখতে পাবো, পৃথিবীতে যারা মহৎ যশ সম্পন্ন ও শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি, যুগে যুগে তাদেরই বিগ্রহ বা প্রতিমূর্তি নির্মাণ করা হয়েছে।
    এখানে প্রতিমা অর্থ হলো তুলনা, মানে ঈশ্বরের তুলনা নেই। যেমন আমরা বলি মাতৃপ্রতিম, মানে মাতৃতুল্য। সংস্কৃত প্রতিমা আর বাংলা প্রতিমা এক নয়।
    সংস্কৃত প্রতিমা শব্দটি প্রতিম শব্দের সঙ্গে আ প্রত্যয়যোগে নিষ্পন্ন। প্রতিম শব্দের অর্থ তুলনীয়, প্রতিম শব্দটি থেকে প্রতিমা শব্দটি এসেছে। তাই ন তস্য প্রতিমা অস্তি অর্থ তার কোনো তুলনা নেই। যেমন ইংরেজি kind শব্দের একটি অর্থ দয়ালু, অন্য অর্থ প্রকার, কিন্তু আমাদের বাক্যানুসারে শব্দার্থ নির্বাচন করতে হবে।
    শ্বেতাশ্বতর উপনিষদের ৪/১৯ পুরো শ্লোকটি হলোঃ
    নৈনমূর্ধ্বং ন তির্যন্চং ন মধ্যে পরিজগ্রভৎ। ন তস্য প্রতিমা অস্তি যস্য নাম মহদ্ যশঃ
    অনুবাদঃ কেউ তার আদি, মধ্য, অন্ত উপলব্ধি করতে পারে না। তিনি গ্রাহ্যাতীত বস্তু। তার কোনো উপমা নেই। তার নাম অনন্ত মহিমাপূর্ণ।
    জনৈক টিভি বক্তার কথায় প্রভাবিত হয়ে অনেকেই সম্পূর্ণ শ্লোক বাদ দিয়ে মাঝখানের অংশ তুলে ধরে মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন।

    ReplyDelete